Friday, November 6, 2020

সুরা আল-কাফিরুন এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

সুরা আল-কাফিরুন এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র কোরআন শরীফের ১০৯ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬টি, রুকু আছে ১টি। 

সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ নম্বর পারায় আছে। সূরা আল-কাফিরুনের পূর্ববর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আল কাওসার, আর পরবর্তী সূরা হচ্ছে সূরা নাসর।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদ তথা তাওহীদের বাণী প্রচার করেন। এই বাণী প্রচারের সময় দাওয়াত দেয়ার সময়কালে মক্কার কুরাইশগণ বিভিন্নভাবে তা প্রচারে বাধা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা, ছক করেও যখন তারা ব্যর্থ হয়, তখন তারা মহানবী (সা.)-কে একটি প্রস্তান দেয় যা ছিল অনৈতিক। 

তারা নবীজিকে তাওহীদের দাওয়াত ও কুফরীর মধ্যে একটি আপোসের প্রস্তাব দিল। তারা প্রস্তাপ দেয় যে, এক বছর তারা এবং সবাই তাদের মূর্তি পূজা করবে এবং আর এক বছর তারা এবং সবাই আল্লাহর ইবাদত করবে। (নাউজুবিল্লাহ) এই অনৈতিক ও হাস্যকর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কাছে পবিত্র এই সূরা নাজিল করেন এবং আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দেন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম যেন তাদের প্রস্তাব আকিদা ও ধর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেন। এ সূরাটি অবতীর্ণ হওয়ার পর মক্কার কিছু মুশরিক ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তারা আল্লাহর একত্ববাদ সাদরে গ্রহণ করেছিলেন।

ফজিলত: সূরা আল কাফিরুন পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিভিন্ন হাদীসে এ সূরার বেশ কিছু ফাযীলত বর্ণিত হয়েছে। আসুন তা জেনে নেই।


         ১. জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওয়াফের দু’ রাকা‘আত সালাতে ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন ও কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পড়তেন।” [মুসলিম; ১২১৮]
 

         ২. ঘুমানোর পূর্বে সূরা কাফিরুন পাঠে রাসূল সালাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন। নবীজি বলেন, ‘যখন শয্যা গ্রহণ করবে তখন পাঠ করবে ‘ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফেরূন’- শেষ পর্যন্ত তা পাঠ করবে। কেননা উহার মধ্যে শির্ক থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে।’ (তবরাণী শরীফ)


         ৩. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন ও কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ দু’টি সূরা দিয়ে ফজরের সুন্নাত সালাত আদায় করেছেন”। [মুসলিম; ৭২৬]


        ৪. ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ফজরের পূর্বের দু’ রাকা‘আতে এবং মাগরিবের পরের দু’রাকাআতে এ দু’ সূরা পড়তে বিশোর্ধ বার বা দশোর্ধ বার শুনেছি।” [মুসনাদে আহমাদ;২/২৪] অন্য বর্ণনায় এসেছে, “চব্বিশোর্ধ অথবা পঁচিশোর্ধবার শুনেছি”। [মুসনাদে আহমাদ;২/৯৫]


         ৫. ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক মাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি তিনি ফজরের পূর্বের দু’ রাকাআতে ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন ও কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ এ দু’সূরা পড়তেন।” [তিরমিয়ী; ৪১৭, ইবনে মাজাহ; ১১৪৯, মুসনাদে আহমাদ; ২/৯৪]


        ৬. তাছাড়া জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আরয করলেন, আমাকে নিদ্রার পূর্বে পাঠ করার জন্যে কোন দো‘আ বলে দিন। “তিনি সূরা কাফিরূন পাঠ করতে আদেশ দিলেন এবং বললেন এটা শির্ক থেকে মুক্তিপত্র।” [আবু দাউদ;৫০৫৫, সুনান দারমী;২/৪৫৯, মুস্তাদরাকে হাকিম;২/৫৩৮]


        ৭. অন্য হাদীসে এসেছে, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সূরা ‘কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন’ কুরআনের এক চতুর্থাংশ”। [তিরমিয়ী; ২৮৯৩, ২৮৯৫] । অর্থাৎ সূরা আল কাফিরুন চার বার পাঠ করলে একবার কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায়। (সুবহানআল্লাহ )

 

আরবি ও বাংলা উচ্চারন: 

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।


قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ
কু'ল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন ৷
অর্থ- বলুন, ‘হে কাফিররা!


لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ
লাআ বুদু মা তা'আবুদুন ৷
অর্থ-আমি তার ‘ইবাদাত করি না যার ‘ইবাদাত তোমরা কর। 


وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
অলা আনতুম আবিদুনা মা আ'বুদ ৷
অর্থ-এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। 


وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ
অলা আনা আবিদুম মা আবাত্তুম ৷
অর্থ-এবং আমি ‘ইবাদাতকারী নই তার যার ‘ইবাদাত তোমরা করে আসছ।


وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ
অলা আনতুম আবিদুনা মা আ'বুদ ৷
অর্থ-তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।


لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
লাকুম দিনুকুম অলিয়া দিন ৷
অর্থ-তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।






Thursday, November 5, 2020

সুরা আন-নাছর এর ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ

 

 بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে শুরু করছি

সূরার নাম : নাছর
শ্রেণী : মাক্কী সূরা (মদীনায় অবতীর্ণ)
অন্য নাম : 
তাওদী
নামের অর্থ : সাহায্য
সূরার ক্রম : ১১০
আয়াতের সংখ্যা :
রুকুর সংখ্যা :

পারার ক্রম : ৩০ পারা

  •  إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ

ইযা জা - আনাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহু
যখন আল্লাহ্‌র সাহায্য ও (মক্কা) বিজয় আসছে

  •  وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا

ওয়ারাআইতান্না সা ইয়াদ খুলুনা ফী-দীনিল্লাহি আফওয়াজা
এবং (হে নবী !) তুমি যদি দেখ যে লোকেরা দলে দলে আল্লাহর দ্বীন (ইসলাম ধর্ম) গ্রহণ করছে

  •  فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا

ফাসাব্বিহ বিহামদি, রাব্বিকা ওয়াছ তাগফিরহু, ইন্নাহু কানা তাওয়্যাবা
তখন আপনি আপনার পালনকর্তার প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী (সর্বাধিক তওবা কবুলকারী) ।


ফযিলত: মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে, জনৈক ইহু্দী রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)- এর উপর জাদু করেছিল। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জিবরাঈল আগমন করে সংবাদ দিলেন যে, জনৈক ইহু্দী জাদু করেছে এবং যে জিনিসে জাদু করা হয়েছে, তা অমুক কুপের মধ্যে আছে। রসুলুল্লাহ (সাঃ) লোক পাঠিয়ে সেই জিনিস কূপ থেকে উদ্ধার করে আনলেন। তাতে কয়েকটি গিরু ছিল। তিনি এই সূরা দুটি পড়ে ফুক দেওয়ায় গিরুগুলো সাথে সাথে খুলে য়ায এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে শয্যা ত্যাগ করেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)- এর উপর জাদু করলে তার প্রভাবে তিনি মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়তেন এবং যে কাজটি করেননি, তাও করেছেন বলে অনুভব করতেন। একদিন তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে বললেনঃ আমার রোগটা কি, আল্লাহ্ তা’আলা তা আমাকে বলে দিয়েছেন। (স্বপ্নে) দুব্যক্তি আমার কাছে আসল এবং একজন শিয়রের কাছে ও অন্যজন পায়ের কাছে বসে গেল। শিয়রের কাছে উপবিষ্ট ব্যক্তি অন্য জনকে বলল, তাঁর অসুখটা কি? অন্যজন বললঃ ইনি জাদুগ্রস্ত। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ কে জাদু করেছে? উত্তর হল, ইহুদীদের মিত্র মুনাফিক লবীদ ইবনে আ’সাম জাদু করেছে। আবার প্রশ্ন হলঃ কি বস্তুতে জাদু করেছে? উত্তর হল, একটি চিরুনীতে। আবার প্রশ্ন হল, চিরুনীটি কোথায়? উত্তর হল, খেজুর ফলের আবরণীতে ‘বির যরোয়ান’ কূপে একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) সে কূপে গেলেন এবং বললেনঃ স্বপ্নে আমাকে এই কূপই দেখানো হয়েছে। অতঃপর চিরুনীটি সেখান থেকে বের করে আনলেন। মুসনাদে আহমদের রেওয়ায়েতে আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই অসুখ ছয় মাস স্থায়ী হয়েছিল।

সুরা যিলযাল এর ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ

 

 بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে শুরু করছি। 

  • إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا  

          ইযা-ঝুলঝিলাতিল আরদুঝিলঝা-লাহা। 

   অর্থ- যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হব। 

  • وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا  

 ওয়া আখরাজাতিল আরদুআছকা-লাহা-। 

অর্থ-যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।  

  • وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا 

ওয়া কা-লাল ইনছা-নুমা-লাহা-।

অর্থ-এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?

  • يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا  

ইয়াওমাইযিন তুহাদ্দিছু আখবা-রাহা-।

অর্থ-সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। 

  • بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا

বিআন্না রাব্বাকা আওহা-লাহা-। 

অর্থ-কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।  

  • يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًالِّيُرَوْا أَعْمَالَهُمْ 

ইয়াওমাইযিইঁ ইয়াসদুরুন্না-ছুআশতা-তাল লিউউরাও আ‘মা-লাহুম। 

অর্থ-সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।  

  • فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ

ফামাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন খাইরাইঁ ইয়ারাহ। 

অর্থ-অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে। 

  • وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّايَرَهُ

ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিছকা-লা যাররাতিন শাররাইঁ ইয়ারাহ। 

অর্থ-এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।  

ফযিলত- 

এই সুরায় ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা খুব সুন্দর এবং সুচারুরুপে বর্ণনা করা হয়েছে।
এই সুরা থেকে যে প্রধান ৫টি শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলঃ
১।        প্রকম্পিত হওয়া এই পৃথিবীর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।    
.
সুরায় বর্ণিত হয়েছেঃ
.
“যখন পৃথিবী প্রবল প্রকম্পনে প্রকম্পিত হবে।” (৯৯:১) 

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইসলাহি (রহঃ) বলেছেন, “এই আয়াতের সঠিক অর্থ হচ্ছে যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে যেভাবে পৃথিবীর প্রকম্পিত হবার কথা অথবা পৃথিবী যখন কম্পিত হবে যেভাবে এর কম্পিত হবার কথা। আরেকভাবে বলতে গেলে পৃথিবীর এই কম্পন কেমন হবে সেটা মানুষের কল্পনারও বাহিরে। কেউই সেই অবস্থা কল্পনা করেও উপলব্ধি করতে পারবেনা। যেভাবে এই পৃথিবী ওইদিন ওলট পালট হবে, ঝাকুনি দিবে, উল্টা পাল্টা হবে, তা কল্পনাতীত। তাই প্রত্যেক বান্দার উচিৎ এই ব্যাপারে সাবধান থাকা এবং নিজের আমলকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করা। (ইসলাহি-২)

 
২।       পৃথিবী তার ভেতর যা কিছু আছে সব উগড়ে দেবে।       
“এবং পৃথিবী তার ভেতর যা আছে তা বের করে দিবে” (৯৯:২)
এখানে ثقل শব্দের অর্থ হল বোঝা অথবা ওজন। এখানে একদিকে যেমন সেই সমস্ত মানুষদের বোঝানো হয়েছে যারা মৃত্যুবরণ করেছে এবং দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কবরস্থ হয়েছে বা ছড়িয়ে হিটিয়ে আছে। এদের সবাইকে সেদিন বের করা হবে হাশরের ময়দানের বিচারের জন্য। সবাইকেই একত্র করা হবে। অন্য বর্ণনায়, বোঝা বলতে সে সমস্ত খনিজ, স্বর্ণ রৌপ্য বোঝানো হয়েছে যা দুনিয়ার বুকে লুক্বায়িত ছিল এবং যেগুলো পাওয়ার জন্য মানুষ পরস্পর হত্যায় লিপ্ত হতো।  
৩।      প্রাণহীন বস্তু হাশরের ময়দানে মানুষের পক্ষে বা বিপখে সাক্ষ্য দিবে।    
 
“এই দিন, পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ আপনার রব্ব আদেশ করবেন” (৯৯:৪-৫)
আমাদের চারপাশে সমস্ত কিছুই আসলে সাক্ষী হয়ে আছে। আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে শুরু করে আমাদের হাত পা, চোখ, কান এই সমস্ত কিছুই হাশরের ময়াদানে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। এই পৃথিবী হবে সাক্ষী সমূহের মধ্যে সবথেকে বড় সাক্ষী। কারণ মানুষ যা কিছুই করে, এই পৃথিবীর উপরের করে থাকে। পৃথিবী পৃষ্ঠের বাইরে গিয়ে কখনও করেনা। প্রত্যেক আদম সন্তানের পক্ষে বা বিপক্ষে এই পৃথিবী সাক্ষ্য প্রদান করবে, হাশরের ময়দানে। 
৪।       হাশরের ময়দানে পরিবার, বন্ধু, সম্পদ কোনই কাজে আসবেনা।
.
 “সেদিন মানুষকে দলে দলে ভাগ করা হবে-যাতে তাঁকে তার আমল দেখান হবে।”(৯৯:৬) 
হাশরের ময়দানে সমগ্র মানবজাতি কবর থেকে উত্থিত হয়ে এক জায়গায় সমবেত হতে থাকবে। একজন আহ্বানকারীর ডাকে সবাই সারা দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছবে। সেদিন কেউ কাউকে চিনবে না। না পিতা তার সন্তানের উপকারে আসবে, না সন্তান তার পিতার উপকারে আসবে। দুনিয়ার মান মর্যাদা, সহায় সম্পত্তি কোন এ আসবেনা। সবাই যার যার হিসেবের জন্য একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকবে।
.
৫।       কোন আমলকেই ছোট মনে করা উচিৎ না
“কেউ সরিষা পরিমাণ নেক আমল করলেও তা দেখতে পাবে।” (৯৯:৭) 
আমাদের স্বাভাবিক মনোবৃত্তি হল সবসময় বড় আমলগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ছোট ছোট আমলগুলো উপেক্ষা করা। কিন্তু এটা অত্যন্ত বড় একটা ভুল আমাদের। কারণ কোন আমল মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হবে তা আমরা জানিনা। ছোট ছোট পানির কণা মিলে যেমন মহাসাগর রচিত হয়, তেমনি ছোট আমল জমে জমে ও পাহাড় পরিমাণ নেকী হাসিল হতে পারে, যা নাজাতের কারণ।
.  
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, 
“কোন এক আমলকেই ছোট মনে করোনা, যদিও সেটা তোমার ভাইএর সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করা ও হয়” (মুসলিম-২৬২৬)
.
তেমনিভাবে ছোট ছোট গুনাহকে গুনাহ মনে না করে করতে থাকলে সেটিও একসময় পাহাড়ের আকার ধারণ করে ধংসের দিকে নিয়ে যায়।

 


Wednesday, November 4, 2020

সুরা লাহাব এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

 

১১১. সূরা লাহাব
পারা ৩০, আয়াত ৫, রুকু ১ (মাক্কী)

বাংলা উচ্চারণ 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়াতাব্বা
অর্থ- ধ্বংস হোক আবু লহবের উভয় হাত, আর সে-ও ধ্বংস হোক!

مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ
মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব
অর্থ-তার ধন-সম্পদ ও যা সে অর্জন করেছে তা তার কোনো কাজে আসবে না। 

سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
সাইয়াছলা না রান যা তালাহাবিওঁ
অর্থ-তাকে অচিরেই ঠেলে দেওয়া হবে লেলিহান আগুনে

وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ‌

ওয়ামরাআতুহু, হাম্মা লাতাল হাত্বোয়াব
অর্থ-এবং তার স্ত্রীকেও; যে ইন্ধন বহনকারিণী।  

فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ ‌

ফী-জী-দিহা হাবলুম মিম মাসাদ ।
অর্থ-তার গলায় থাকবে কড়াপাকের খেজুরের আঁশের রশি।  

মর্মবাণী
দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে।
ধ্বংস হবে আবু লাহাবের দুই হাত। ধ্বংস হবে সে নিজেও। তার ধনসম্পত্তি ও উপার্জন কোন কাজে আসবে? সময় হলেই সে লেলিহান আগুনে প্রবেশ করবে। সাথে থাকবে কুচক্রী স্ত্রী। গলায় থাকবে শক্ত পাকানো রশি।

ফযিলত
সহীহ বুখারীতে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সঃ) বাতহা নামক স্থানে গিয়ে একটি পাহাড়ের উপর আরোহন করলেন এবং উচ্চস্বরে, ‘ইয়া সাবা’হা’হ ইয়া সাবা’হা’ ( অর্থাৎ হে ভোরের বিপদ, হে ভোরের বিপদ) বলে ডাক দিতে শুরু করলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে সমস্ত কুরাইশ নেতা সমাবেত হলো। তখন রাসূল (সঃ) বললেন, ‘যদি আমি তোমাদেরকে বলি যে, সকালে অথবা সন্ধ্যাবেলায় শত্রুরা তোমাদের উপর আক্রমণ চালাবে তবে কি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস করবে?’

তখন সমস্বরে বলে উঠলো, ‘হাঁ হাঁ অবশ্যই বিশ্বাস করবো।’ তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ‘শোনো, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর ভয়াবহ শাস্তির আগমনের সংবাদ  দিচ্ছি।’ তখন আবু লাহাব একথা শুনে বললো, ‘তোমার সর্বনাশ হোক, এ কথা বলার জন্যই কি তুমি আমাদেরকে সমবেত করেছো?’

তখন আল্লাহ তায়ালা এ সূরাটি নাযিল করেন।

 

সুরা নাস এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

 

সুরা নাস এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

আরবি ও বাংলা উচ্চারণ: 

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
কুল আউযু বিরাব্বিন নাস
 অর্থ- বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,

مَلِكِ النَّاسِ
মালিকিন্ নাস
 অর্থ- মানুষের অধিপতির।

إِلَهِ النَّاسِ
ইলাহিন্ নাস
 অর্থ- মানুষের মা’বুদের।

مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
মিন্ শাররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস
অর্থ-তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,

الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
আল্লাযী ইউওয়াসইসু ফী ছুদুরিন্নাস
অর্থ-যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।

مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস
অর্থ-জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

 ফযিলত:

ফজিলতপূর্ণ এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬, এতে রুকু আছে ১টি। সূরা আল নাস মদিনা শরীফে অবতীর্ণ হয়। এই সূরায় ২০টি শব্দ এবং ৮০টি অক্ষর রয়েছে। সূরা নাসের পারার ক্রম হচ্ছে ৩০।

সূরা নাসের পূর্ববর্তী (১১৩ নং সূরা) সূরা আল ফালাক এর সঙ্গে বিষয়বস্তুতে সাদৃশ্য রয়েছে। হাদিস শরীফে সূরা নাস ও সূরা ফালাক বারবার পড়ার জন্যে তাগিদ দিয়েছে। এই দুই সূরাকে এক সঙ্গে মুআওবিযাতাইন বলা হয়। 

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এ দুইটি সূরা তোমরা পড়তে থাক। কেননা, এ দুইটি সূরার মতো কোনো সূরা তোমরা কোনো দিন পাবে না।’ (মুসলিম ৮১৪)

আল-নাস শব্দের অর্থ মানব জাতি। এ সূরার প্রথম তিন আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালার মাহাত্ন্য বর্ণিত আছে। আর পরের তিন আয়াতে জ্বিন ও মানুষরূপী শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে মহান আল্লাহর কাছ থেকে আশ্রয় গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া আছে।

এ সূরায় আল্লাহ তায়ালার তিনটি সিফাত মানুষের পালনকর্তা, মানুষের অধিপতি, মানুষের উপাস্য উল্লেখ করা আছে। বাকি তিন আয়াতে শয়তানের অনিষ্ট হতে পানা চাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। 

একদা এক ইহুদী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ওপর জাদু করেছিল। যার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জিবরাঈল (আ.) মহানবী (সা.)-কে বলেন যে, এক ইহুদী তাকে জাদু করেছে এবং যে জিনিস দিয়ে জাদু করা হয়েছে তা একটি কুপের মধ্যে পাথরের নিচে আছে। মহানবী (সা.) সেই জিনিস কূপ থেকে উদ্ধার করার জন্য লোক পাঠালেন। সেখানে গিয়ে কয়েকটি গিরা পাওয়া গিয়েছিল। তখন তিনি সূরা নাস ও ফালাক দুইটি একসঙ্গে পড়ে ফুক দেন এবং গিরাগুলো সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বিছানা থেকে ওঠেন।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত এক সঙ্গে মিলাতেন। তারপর উভয় হাতে ফুঁক দিতেন এবং সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়তেন। তারপর দেহের যতটুকু অংশ সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। তিনি এরূপ তিনবার করতেন। (সহি বুখারি)

ফজর আর মাগরিবে এই দুই ওয়াক্তে ফরজ সালাতের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি সূরা তিনবার করে পড়া সুন্নত। অন্যান্য ফরজ সালাতের আদায় করে একবার করে এই তিন সূরা পড়তে হবে। (আবু দাউদ হা: ১৩৬৩)

সূরা নাস পড়লে শয়তানের অনিষ্ট ও যাদু থেকে হেফাজতে থাকা যায়। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা ( সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৯০৩)

হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার কি জানা নেই আজ রাতে আমার ওপর যে আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে এগুলোর মতো কোনো আয়াত দেখাও যায়নি এবং শোনাও যায়নি। আর তা হলো কুল আয়ুজু বি রাব্বিল ফালাক ও কুল আয়ুজু বি রাব্বিন নাস। (সহি মুসলিমঃ৮১৪)

Tuesday, November 3, 2020

সুরা ফালাক এর আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

সুরা ফালাক এর আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 সুরা আল-ফালাক, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত : ৫, রুকু : ১, ১১৩ নম্বর সুরা

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ -বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে (শুরু করছি)

 


 قُلْ أَعُوذُ بِرَ‌بِّ الْفَلَقِ -কুল্ আ‘ঊযু বিরব্বিল্ ফালাক্ব
অর্থ- বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,

مِن شَرِّ‌ مَا خَلَقَ -মিন্ শার রিমা-খলাক্ব
অর্থ-তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,

وَمِن شَرِّ‌ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ -অমিন্ শাররি গ-সিক্বিন্ ইযা-অক্বাব্
অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
 

وَمِن شَرِّ‌ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ -অমিন্ শাররি ন্নাফ্ফা-ছা-তি ফিল্ ‘উক্বদ্
গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে
 

وَمِن شَرِّ‌ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ -অমিন্ শাররি হা-সিদিন্ ইযা-হাসাদ্
এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে ।
 

 

 

 

 

সুরা ত্বীনের আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থ ও ফযিলতসহ

 

 সুরা ত্বীনের আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থ ও ফযিলতসহ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ * وَطُورِ سِينِينَ * وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ * لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ * ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ * إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ * فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ * أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ 

 

উচ্চারণ :
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম"
                  ওয়াত্তীনি ওয়াজ্জাইতুন ওয়া তুরি সিনীন। ওয়া হাযাল বালাদিল আমিন। লাকাদ খালাকনাল ইনসানা ফী আহ্সানি তাকবীম। ছুম্মা রাদাদ না-হু আসফালা সাফেলীন। ইল্লাল্লাযীনা আমানু ওয়া আমিলুছ ছা-লিহাতি ফালাহুম আজরুন গাইরু মামনুন। ফামা ইউকাযযিবুকা বাআদু বিদ্দীন। আলাই সাল্লাহু বি আহকামিন হাকিমীন।  
 
বাংলা অনুবাদ:
                            পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। 
                শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) যয়তুনেরএবং সিনাই প্রান্তরস্থ তূর পর্বতেরএবং এই নিরাপদ নগরীর আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার অতঃপর কেন তুমি অবিশ্বাস করছ কেয়ামতকে? আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্টতম বিচারক নন? 
 
               এই সূরার শুরুতে আঞ্জির (ডুমুর), যয়তুন (জলপাই), সিনাই পর্বত এবং মক্কা শহরের কসম বা দোহাই দেয়া হয়েছে। আরবে সেই যুগে আঞ্জির ও জলপাই অত্যন্ত গুরুত্ববাহী দুটি ফল ছিল; খাদ্য ও অর্থকরী ফসল হিসেবে এর গুরুত্ব ছিল অসীম।

 

 

 

দুরুদে আকবর এর ২য় খন্ড

  দুরুদে আকবর এর ২য় খন্ড