Wednesday, November 25, 2020

আল্লাহ তায়ালার ৯৯ নামের ফযিলত ও নাম

 

আল্লাহ তায়ালার ৯৯ নাম ও ফযিলত

              আল্লাহর ৯৯টি গুণ বাচক নাম এবং নামের অর্থ সহ ফজিলত ও আমলের সময় ও নিয়ম সহকারে তুলেধরা হয়েছে।

              বিভিন্ন হাদীস অণুসারে, আল্লাহ’র ৯৯টি নামের একটি তালিকা আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিক ক্রম নেই; তাই সম্মিলিত মতৈক্যের ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকাও নেই। তাছাড়া কূরআন এবং হাদিসের বর্ণনা অণুসারে আল্লাহ্’র সর্বমোট নামের সংখ্যা ৯৯-এর অধিক, প্রায় ৪,০০০। অধিকন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত একটা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ্ তার কিছু নাম মানবজাতির অজ্ঞাত রেখেছেন।

            “ আল্লাহ বলে আহ্বান করো কিংবা রহমান বলে, যে নামেই আহবান করো না কেন, সব সুন্দর নাম তাঁরই। — সূরা বনী-ইসরাঈল আয়াত-১১০। ”


              অনেকগুলো হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহ’র নেকগুলো নাম-এর উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিশুদ্ধ হাদিসে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) জনাব মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উক্তি বর্ণনা করেন যে, “ আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নাম আছে; সেগুলোকে মুখস্থকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বিজোড় (অর্থাৎ, তিনি একক, এবং এক একটি বিজোড় সংখ্যা), তিনি বিজোড় সংখ্যাকে ভালোবাসেন। আর ইবনে উমরের বর্ণনায় এসেছে যে, (শব্দগুলো হলো) “যে ব্যক্তি সেগুলোকে পড়বে”।”কোরআনের বর্ণনায় আল্লাহ’র গুণবাচক নামসমূহকে “সুন্দরতম নামসমূহ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

              ছোট ছোট কিছু দোয়া আমল করলে অনেক নেকি হাসিল করা যায় । আমরা এসব দোয়া গুলো একটু সময় দিলেই আমল করতে পারি এবং অনেক নেকি হাসিল করতে পারি। দোয়া চাওয়া বা দোয়া করা মুসলিম সম্প্রদায় এর জন্য খুব জরুরি | একটা বিষয় প্রত্যেক মুসলমানকে আল্লাহর কাছে একান্ত কিছু চাইতে হলে দোয়া করতে হয় তবে এই দোয়া চাওয়ার কিছু নিয়ম আছে প্রত্যেকটি চাওয়ার জন্য থাকে আলাদা দোয়া, আলাদা আমল ,কারণ এক এক দোয়ার এক এক রকম ফজিলত, আমরা অনেকে জানি না কোন সময় কোন দোয়া পড়তে হয় অথবা কোন দোয়া পড়লে কি ফজিলত হয় তাও জানি। তাই আমরা হয় তো দোয়া করেও আমাদের চাওয়াটা পাই না আবার এরুপ ও হাদিসে বর্ননা আছে যে আমরা আল্লালাহর কাছে যা চাই তা আল্লাহ তার পরিবর্তে আমাদের সেই সমান কোন বিপদ থেকে মুক্তি দেন বা যা চাই তা আখেরাতের জন্য বরাদ্দ করেন যাই হোক আল্লাহ তা'আলা সুমহান তিনি পরম দয়ালু আল্লাহর দরবারে দু"হাত দিলে কোন কিছু চাইলে আল্লহ নারাজ করেন না।




আল্লাহর ৯৯ নাম,আল্লাহর ৯৯ নাম বাংলা অর্থ ও ফজিলত,আল্লাহর ৯৯ নামের ফজিলত,আল্লাহর ৯৯ নাম বাংলা,আল্লাহর ৯৯ নাম ও ফজিলত,আল্লাহর ৯৯ নাম বাংলায়,আল্লাহর ৯৯ নাম মুখস্ত করার ফজিলত,আল্লাহর নাম,আল্লাহ ৯৯ নামের ফজিলত,৯৯ নাম,আল্লাহর ৯৯ নামের গজল,আল্লাহর ৯৯ টি নাম,আললাহূ ৯৯ ও তদবির,৯৯ নাম বাংলা অর্থ ও ফজিলত,৯৯ নাম আল্লাহর,আল্লাহর ৯৯টি নাম,আল্লাহর ৯৯ নাম ও অর্থ,আল্লাহর,আল্লাহ,আল্লাহর 99 টি নাম,আল্লাহর ৯৯ টা নাম,আল্লাহর ৯৯ নাম বাংলায়,আল্লাহর ৯৯ নাম ও ফযিলত,আল্লাহর ৯৯ নাম ও তদবির,৯৯ নাম আলাহর






 

Sunday, November 15, 2020

সুরা ইয়াছিন এর ফযিলত

 

সুরা ইয়াছিন এর ফযিলত

        সূরা ইয়াছিন পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৩৬ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮৩টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ৫টি। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ সুরাকে কুরআনের হৃদয় বলা হয়েছে। সুরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও আমলে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত।

             কুরআনুল কারিম ৩০ পারায় সাজানো। ২২তম পারার শেষে এ সুরাটি শুরু হয়েছে ২৩ তম পারার প্রথম দিকে শেষ হয়েছে। সুরাটিতে আয়াত সংখ্যা ৮৩, পাঁচটি রুকু এবং ৭টি মুবিন রয়েছে। সুরাটি ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের অনেক বর্ণনা রয়েছে।

          হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কোরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কোরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি)।

            রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন কোরআনের রূহ বা হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

            ইমাম গাজ্জালী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সূরা ইয়াসিনকে কোরআনের হৃদয় এ কারণে বলা হয়েছে যে, ‘এ সূরায় কেয়ামত ও হাশর-নশর বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা ও অলঙ্কারসহকারে বর্ণিত হয়েছে। পরকালে বিশ্বাস ঈমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের বিশুদ্ধতা নির্ভরশীল। পরকালের ভয়ভীতি মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। তাই দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল (রুহুলমায়ানি)।

             সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়ায় রয়েছে অনেক উপকারিতা। এ সূরায় মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির দিকে আহ্বান করে। আর পরকালভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে।

           সুতরাং দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল। এ সূরার নিয়মিত আমলকারীর প্রতি থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারীর কোনো গোনাহ থাকে না। সে দিক থেকে পরকালীন কল্যাণের জন্য সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়া খুবই জরুরি।

               তিরমিজী শরিফে উল্লেখ রয়েছে, সূরা ইয়াছিন একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং পাঠকের সব গুনাহ মাফ হয়। হাদিসে আরো বলা হয়েছে, রাতে সূরা ইয়াছিন পাঠ করলে নিস্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠা যায় এবং পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াছিন বেশি বেশি পড়ে থাকে কেয়ামতের দিন এই সূরাই তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা ইয়াছিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে।

              হজরত আবু যর (রা.) বলেন, আমি রাসূল (সা.) এর কাছ থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)।

              হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন অভাব-অনটনের সময় পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি ও রিজিকে বরকত লাভ হয়। (মাজহারি)।

                ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে (মাজহারি)। এছাড়াও সূরা ইয়াসিনের বহু ফজিলত হাদিসে বর্ণিত আছে, তাই আমাদের এই সূরাটি অর্থসহ বুঝে পড়া ও আমল করা উচিত।

 গোনাহ মাফের মাধ্যম সুরা ইয়াসিন
প্রতিদিনের কাজ-কর্মে মানুষ অনেক ভুল-ত্রুটি করে থাকে। আর এসব ভুল-ত্রুটি করা গোনাহের কাজ। গোনাহ মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। আর জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেক আমল করা। হাদিসে এসেছে-
- হজরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বায়হাকি,আবু দাউদ)
- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (দারেমি)

অভাবমুক্ত থাকার আমল সুরা ইয়াসিন
মানুষের নানামুখী অভাব-অনটন থাকে। শুধু পরিশ্রমে কোনো মানুষের অভাব শেষ হয় না। প্রয়োজন হয় আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহের। সুরা ইয়াসিনের আমল অভাবি ব্যক্তির জন্য আল্লাহর মহা অনুগ্রহ। এ সুরার আমলে দুনিয়ার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে-
- হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি অভাব-অনটনের সময় সুরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি আসে এবং রিজিকে বরকত হয় ‘ (মাজহারি)
- হজরত আতা বিন আবি রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন আমি শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করা হবে।’ (দারেমি)
-হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (মাজহারি)

মৃত্যুর যন্ত্রণা মুক্ত থাকার মাধ্যম সুরা ইয়াসিন
তাফসিরে জালালাইনের হাশিয়ায় এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় হয়, আর সে সময় তার পাশে কেউ সুরা ইয়াসিন পাঠ করে, তবে বেহেশত থেকে রেদওয়ান ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ না দেয়া পর্যন্ত রূহ কবজকারী ফেরেশতা (মালাকুল মাউত) ওই ব্যক্তির রূহ কবজ করেন না। রূহ কবজের সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি অবস্থান হয় রাইয়্যান নামক জান্নাতে। হাদিসে পাকে এসেছে-
- হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘মৃত্যুশয্যা ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)
- হযরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এটা (সুরা ইয়াসিন) তোমাদের মুমূর্ষু (মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে) ব্যক্তিদের কাছে পাঠ কর।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

মুমিন মুসলমানের ঘরে ঘরে সুরা ইয়াসিনের নিয়মিত অধ্যয়ন, তেলাওয়াত ও আমল খুবই জরুরি। সুরাটি ‘সুরা ইয়াসিন’ নামে প্রসিদ্ধ হলেও এর রয়েছে আরও কয়েকটি নাম। যথাক্রমে তা হলো, ‘সুরা আজিমা’, ‘সুরা মুদাফিয়া’, ‘সুরা কাজিয়া’। এ ছাড়া আসমানি গ্রন্থ তাওরাতে এ সুরাটিকে ‘মুয়িম্মাহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন সকালে অন্তত একবার এ সুরাটি তেলাওয়াত করা। কেননা এ সুরার তেলাওয়াতকারীকে ইহকাল ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ ও শান্তি দান করা হবে।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘এ সুরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে আর আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করে সে আলোকে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

সুরা ত্বীনের আরবি ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ ফযিলত

 

সুরা ত্বীনের আরবি ও বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ ফযিলত

 
 
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيْتُونِ
وَطُورِ سِينِينَ
وَهَٰذَا ٱلْبَلَدِ ٱلْأَمِينِ
لَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ فِىٓ أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ
ثُمَّ رَدَدْنَٰهُ أَسْفَلَ سَٰفِلِينَ
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ
فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِٱلدِّينِ
أَلَيْسَ ٱللَّهُ بِأَحْكَمِ ٱلْحَٰكِمِينَ


         উচ্চারণঃ ওয়াততীনি ওয়াঝ জাইতুন ওয়াতুরি সিনীনা, ওয়াহাজাল বালাদিল আমিন, লাক্বাদ খালাকনাল ইনসানা ফী আহসানি তাক্বউয়ীম, ছুম্মা রাদাদনা-হু আসফালা সাফিলীন। ইল্লাল্লাযিনা আমানু ওয়া আমিলুস ছালিহাতী ফালাহুম আজরূন গায়রু মামনুন ফামায়ু কাজ্জিবুকা বা’দু বিদ্দীন আলাইসাল্লাহু বিআহকামির হাকিমীন।

           অর্থঃ শপথ ডুমুর জাইতুনের এবং সিনাই প্রন্তরস্থ তূর পবর্তের এবং এই নিরাপদ নগরীর আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম আকারে। অতঃপর কাবে ফিরিয়ে দিয়েছি নিচ থেকে নিচে কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করেও সৎ কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার সুতরাং কি তুমি অবিশ্বাস করছ কিয়ামতকে? আল্লাহ্ কি শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?
 

 

 

Sunday, November 8, 2020

সুরা ফীল এর ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

 

সুরা ফীল এর ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ 
 
 
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَٰبِ ٱلْفِيلِ
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِى تَضْلِيلٍ
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍۭ
উচ্চারণঃ আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল। আলাম ইয়াজ‘আল কাইদাহুম ফী তাদলীল ওয়া আরছালা ‘আলাইহিম তাইরান আবা-বীল। তারমীহিম বিহিজা-রাতিম মিন ছিজ্জীল। ফাজা‘আলাহুম কা‘আসফিম মা’কূল।
 
অর্থঃ আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি? তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী, যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দেন।
 

ফযিলত: ইবনু কাছীর বলেন, এর অর্থ হ’ল এই যে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস ও নির্মূল করে দেন। তাদের সমস্ত চক্রান্ত ভন্ডুল করে দেন। তাদের প্রায় সকলেই ধ্বংস হয়। যারা ফিরেছিল, তারাও আহত অবস্থায় ফিরেছিল। যেমন তাদের নেতা আবরাহা কিছু সাথীসহ রাজধানী ছান‘আতে পৌঁছেন। কিন্তু তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে পড়ছিল। অবশেষে তার বুক ফেটে কলিজা বেরিয়ে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার আগে তিনি লোকদের কাছে আল্লাহর গযবের কাহিনী বর্ণনা করে যান (ইবনু কাছীর)।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, আবরাহার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াকসূম (يكسوم) শাসক হন। তার পরে তার ভাই মাসরূক (مسروق) ক্ষমতাসীন হন। এ সময় সাবেক হিমইয়ারী শাসক সম্প্রদায়ের সায়েফ বিন যী-ইয়াযান (سيف بن ذى يَزَن) বিদ্রোহ করেন এবং পারস্য সম্রাট কিসরার সাহায্য প্রার্থনা করেন। ফলে কিসরার সৈন্যদের সহায়তায় তিনি হাবশী শাসকদের পরাজিত করে ৭২ বছর পর নিজ বংশের হৃত শাসন ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন।[সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৬৮]

কুরতুবী বলেন, আমাদের বিদ্বানগণ বলেছেন যে, হস্তীওয়ালাদের এই কাহিনী আমাদের নবীর জন্য অন্যতম মু‘জেযা স্বরূপ ছিল। কেননা তিনি স্বচক্ষে ঘটনা দেখেননি। অথচ যখন তিনি এই সূরা পাঠ করে শুনান, তখন মক্কায় এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বহুলোক বেঁচেছিলেন। তারা সবাই এ সূরার বক্তব্যের সাথে ঐক্যমত পোষণ করেন। এমনকি হযরত আয়েশা (রাঃ) ঐ সময় বাল্য বয়সের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও তিনি বর্ণনা করেন যে, لَقَدْ رَأَيْتُ قَائِدَ الْفِيْلِ وَسَائِقَهُ أَعْمَيَيْنِ يَسْتَطْعِمَانِ النَّاسَ– ‘আমি হাতির চালক ও সহিসকে অন্ধ অবস্থায় মানুষের কাছে খাদ্য চাইতে দেখেছি’। [সীরাতে ইবনে হিশাম ১/৫৭] একই বর্ণনা তাঁর বোন হযরত আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ) থেকেও এসেছে (ইবনু কাছীর)।

উল্লেখ্য যে, মক্কা বিজয়ের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) হস্তীবাহিনী ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে বলেন, إِنَّ اللهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ وَسَلَّطَ عَلَيْهَا رَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِيْنَ قَدْ عَادَتْ حُرْمَتُهَا الْيَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মক্কা থেকে হস্তীবাহিনীকে প্রতিরোধ করেছেন এবং তার উপর তাঁর রাসূল ও মুমিনগণকে বিজয়ী করেছেন। আর এর পবিত্রতা পুনরায় আজ ফিরে এসেছে, যেমন পবিত্র ছিল গতকাল। অতএব হে জনগণ! উপস্থিতগণ অনুপস্থিতগণের নিকট পৌঁছে দাও’।[বুখারী হা/৬৮৮০, মুসলিম হা/১৩৫৫]

 

 

Saturday, November 7, 2020

সুরা আল-কুরাইশের ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

সুরা আল-কুরাইশের ফযিলত, আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

সূরা কুরাইশ মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০৬ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৪ টি। 

ফযিলত:

তাফসিরে দুরারুন নজমে এসেছে, এ সুরাটি লিখে বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে পান করলে কফ-কাশি দূর হয়।
- যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সুরা যুখরূফ তেলাওয়াত করছে, তার অর্থ দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে সফল হবে আর পরকালে সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।

সূরা কুরাইশ এর অর্থ এবং বিষয়ের দিক হতে তার পূর্ববর্তী সূরা আল ফীলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই কোন কোন মাসহাফে এই দুই সূরা একসঙ্গে লেখা আছে।

তবে জামিউল কোরআন হজরত ওসমান (রা.) তার খেলাফতকালীন সময়ে মুসলিম উম্মাহার ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখার জন্যে কোরআনের সব মাসহাফ একত্রিত করে সাহাবায়ে-কেরামের ইজমার ওপর আল কোরআনকে নতুন কপিতে সংযোজিত করান। সেই কপিতে পবিত্র এই দুই সূরা দুটি আলাদা সূরা ও বিসমিল্লাহ সহ সন্নিবিষ্ট আছে।

কুরাইশদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত সীমাহীন। তা ছাড়া ও তারা যে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সময়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করতো সে বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা এই সূরায় তুলে ধরেছেন এবং আল্লাহ তায়ালার তাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ প্রকাশ করার কথা বলেছেন। সে সময় আরব কুরাইশগণ শীতকালে ইয়েমেন ও গ্রীষ্মকালে সিরিয়া, ফিলিস্তিনে সফর করে ব্যবসা করে লাভ করতো। আর তাদের মরুভূমিতে ক্ষুধায় খাদ্য ও জলের কোনো অভাব হয়নি।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মক্কাবাসীরা খুব দারিদ্র ও কষ্টে দিনাতিপাত করত। অবশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের  প্রপিতামহ হাশেম কোরাইশকে বিদেশে যেয়ে ব্যবসা করার জন্যে উৎসাহিত করেন।

 

 সুরা আল-কুরাইশ এর আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ:

 لِإِيلَٰفِ قُرَيْشٍ

 লিঈলা-ফি কুরাইশ। 
অর্থঃ কোরাইশের আসক্তির কারণে,
 
إِۦلَٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ
ঈলা-ফিহিম, রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ।  
অর্থ-আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের। 
 
فَلْيَعْبُدُوا۟ رَبَّ هَٰذَا ٱلْبَيْتِ
 ফালইয়া‘বুদূরাব্বা হা-যাল বাঈত। 
অর্থ- অতএব তারা যেন এবাদত করে এই ঘরের পালনকর্তার যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় আহার দিয়েছেন
 
 
ٱلَّذِىٓ أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍۭ
আল্লাযীআতা‘আমাহুম মিন জূ‘ইওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।
অর্থ- এবং যুদ্ধভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।
 


 

Friday, November 6, 2020

সুরা আল-মাউন এর ফযিলত এর আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

সুরা আল-মাউন এর ফযিলত এর আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

          সূরা আল মাউন মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০৭ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৭ টি। এ সূরায় কাফের ও মুনাফেকদের কতিপয় দুষ্কর্ম উল্লেখ করে তজ্জন্য জাহান্নামের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। এ সূরায় এমন সব নামাযীদেরকে ধ্বংসের বার্তা শুনানো হয়েছে যারা নিজেদের নামাযে গাফলতি করে এবং লোক দেখানো নামায পড়ে।

সূরাঃ আল-মাউন  

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ

أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ

আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযি বুবিদ্দীন।

অর্থ- আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে?


فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ

ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম।

অর্থ-সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়


وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ

ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-ত‘আ-মিল মিছকীন।

অর্থ-এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।


فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ

ফাওয়াইঁলুললিল মুসাল্লীন।

অর্থ-অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর,


ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ

আল্লাযীনাহুম ‘আন সালা-তিহিম ছা-হূন।

অর্থ-যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর;


ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ

আল্লাযীনা হুম ইউরাঊনা।

অর্থ-যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে


وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ

ওয়া ইয়ামনা‘ঊনাল মা‘ঊন।

অর্থ-এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না। 

           বিষয়বস্তু: আখেরাতের প্রতি ঈমান না আনলে মানুষের মধ্যে কোন ধরনের নৈতিকতা জন্ম নেয় তা বর্ণনা করাই এর মূল বিষয়বস্তু। ২ ও ৩ আয়াতে এমনসব কাফেরদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যারা প্রকাশ্যে আখেরাতকে মিথ্যা বলে। আর শেষ চার আয়াতে যেসব মুনাফিক আপাতদৃষ্টিতে মুসলমান মনে হয় কিন্তু যাদের মনে আখেরাত এবং তার শাস্তি ও পুরস্কার ও পাপ পূর্ণের কোন ধারণা নেই , তাদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। আখেরাত বিশ্বাস ছাড়া মানুষের মধ্যে একটি মজবুত শক্তিশালী ও পবিত্র – পরিচ্ছন্ন চরিত্র গড়ে তোলা কোন ক্রমেই সম্ভবপর নয় , এ সত্যটি মানুষের হৃদয়পটে অংকিত করে দেয়াই হচ্ছে সামগ্রিকভাবে উভয় ধরনের দলের কার্যধারা বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য।

      সূরা আল মাউন-এর শানে নুযুল সম্পর্কে বহু মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে যার একটি আরেকটির বিপরীত।
       হযরত মাক্বাতিল ও হযরত কালবি (রহ.)-এর মতে এ সূরা আস ইবনে ওয়ায়িল সাহমী সম্পর্কে এবং হযরত সুদাঈ (রহ.)-এর মতে ওয়ালিদ ইবনে মুগাইরা সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।
হযরত ইবনে জারিহ (রহ.) বলেনঃ “আবু সুফইয়ান প্রতি সপ্তাহে উট অথবা দুম্বা জবেহ করতো। একদিন এক ইয়াতিম তার কাছে কিছু চাইলে সেই ইয়াতিমকে তার লাঠি দিয়ে আঘাত করলে এ সূরা নাযিল হয়।” (আসবাবুন নুযুল, পৃঃ নং ২৪৭)।
 
       হযরত আত্বা হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করছেন যে, এ সূরা একজন মুনাফিকের ব্যাপারে নাযিল করা হয়েছে। [মাজমাউল বায়ান ফি তাফসীরিল কুরআন (ফারসী অনুবাদ), খণ্ড ২৭, পৃঃ নং ৩০৫]।
 
        কিছু কিছু মুফাসসিরগণ মনে করেন, এ সূরার প্রথম অর্ধেক কাফেরদের কারণে এবং শেষ অর্ধেক মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।
কিছু মুফাসসিররা বলেছেনঃ “আবু জাহল ক্বিয়ামত অস্বীকার করেছিল। সে যখনি কোন ইয়াতিমকে দেখতো লাঠিপেটা করতো এবং তাদেরকে আহার থেকে বঞ্চিত করতো। আর অন্যদেরকে দান থেকে নিরুৎসাহিত করতো। তখন আল্লাহ তায়ালা আবু জাহলের পরিচয় তুলে ধরার জন্যে এ সূরা অবতীর্ণ করেন।” (খুলাসাতুল মিনহাজ, খণ্ড ৬, পৃঃ নং ৩৪০; তাফসীর আল ইসনা আশারী, খণ্ড ১৪, পৃঃ নং ৩৫৭)।
 
        উক্ত সুরাটিতে আল্লাহ প্রথমেই বিচার দিবসের কথা বলেছেন এবং এরপর বলছেন সেই সব লোকদের কথা যারা এতিমদের গলা ধাক্কা দেয়। মুলত তারাই বিচার দিবসকে অস্বীকার করে। আমাদের বর্তমান সমাজে এর চিত্র প্রতিদিনের। অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করছে। এবং আল্লাহ বলছেন এরা নামযের প্রতি অবহেলা করে এবং অমনোযোগী। এবং এদের নামায আল্লাহ কবুল করেন না। আমাদের সমাজে এমন অনেক লোক রয়েছেন যারা লোক দেখানো ইবাদাত করে এবং সাহায্য করে। আর এরাই হচ্ছে মুনাফিক। অর্থাৎ এরা ভিতরে নিজের দাম্ভিকতা দেখানোর জন্যে মানুষদের সাহায্য করছে অথচ বাহিরে এমন ভাব দেখায় তারা সমাজ সেবা করছে। এরাই হলো মুনাফিক। এবং এরাই হবে কাফিদের দলে। মূলত লোক দেখানো  আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না।

সুরা আল-কাউসার এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

 

সুরা আল-কাউসার এর ফযিলত আরবি ও বাংলা উচ্চারন অর্থসহ

এই সূরার রুকুর সংখ্যা ১। সূরা কাউসার হচ্ছে দোজাহানের অফুরন্ত কল্যাণের সুখবর! এই সূরা হতে জানা যায় হাউজে কাউসার সম্পর্কে, যা কিয়ামতের মাঠে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে প্রদান করা হবে।

যে মুহূর্তে সূরা আল কাউসার নাজিল হয় সে মুহূর্তে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের চেহরা মোবারকে হাসির নূরানি ঝটা দেখতে পান সাহাবায়ে কেরামগণ।  

ছোট এই সূরা পাঠে রয়েছে অসংখ্য সাওয়াব ও ফজিলত। সূরা আল কাউসার পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়। আয়াত সংখ্যা ৩।  মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ৩০ তম পারার ১০৮ তম সূরা -সূরা আল কাউসার, যার অর্থ হচ্ছে প্রভূত কল্যাণ। এ সূরাকে সূরা নাহারও বলা হয়। 

সূরা কাউসারের বিভিন্ন অর্থ বর্ণিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন অর্থের সঙ্গে সাদৃশ্য হয়ে যায় এমন এক অর্থ ‘প্রভূত কল্যাণ’ যা হজরত ইবনে কাসীর (র.) প্রাধান্য দিয়েছেন।

ফযিলত:-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একদিন মসজিদে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। হঠাৎ মহানবীর (সা.) মাঝে তন্দ্রা অথবা একধরনের অচেতনতার ভাব দৃশ্যমান হলো। এরপর নবীজি (সা.) হাসিমুখে মস্তক উত্তোলন করলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার হাসির কারণ কী?’ তিনি বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমার নিকট একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে’। অতঃপর তিনি বিসমিল্লাহসহ সূরা কাউসার পাঠ করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা জান, কাউসার কী?’ আমরা বললাম, ‘আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন’। তিনি বললেন, ‘এটা জান্নাতের একটি নহর। আমার পালনকর্তা আমাকে এটা দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন। এতে অজস্র কল্যাণ আছে এবং এই হাউজে কেয়ামতের দিন আমার উম্মত পানি পান করতে যাবে। এর পানি পান করার পাত্র সংখ্যা আকাশের তারকাসম হবে। তখন কতক লোককে ফেরেশতাগণ হাউজ থেকে হটিয়ে দেবে। আমি বলবো, পরওয়ারদেগার, সে তো আমার উম্মত। আল্লাহ তায়ালা বলবেন, আপনি জানেন না, আপনার পরে সে কী নতুন মত ও পথ অবলম্বন করেছিল?’ (হাদিসে সহিহ বোখারি, মুসলিম শরিফ, আবু দাউদ, নাসায়ী)।

তৎকালীন আরবে যাদের পুত্র সন্তান মারা যেতো তাদের নির্বংশ বলেন অপবাদ দেয়া হতো। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের পুত্র কাসেম অথবা ইব্রাহিম যখন মারা গেলেন, তখন আরবের কাফেররা নবিজী (সা.)-কে উপহাস করা শুরু করলো নির্বংশ। আর এই প্রেক্ষাপটে সূরা আল কাউসার অবতীর্ণ হয়। এই সূরায় আল্লাহর পেয়ারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ও শান উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব কাফের নবীজি (সা.)-কে নির্বংশ বলে দোষারোপ করত,  তাদেরকে নির্বংশ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে পবিত্র কোরআনে এই সূরার মাধ্যমে। 

মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হোসাইন থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তির পুত্রসন্তান মারা যায়, আরবে তাকে ‘আব্‌তার্‌’ নির্বংশ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর পুত্র কাসেম অথবা ইব্রাহিম যখন শৈশবেই মারা গেলেন, তখন কাফেররা তাঁকে নির্বংশ বলে উপহাস করতে লাগল। ওদের মধ্যে ‘আস ইবনে ওয়ায়েলের’ নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার সামনে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) এর কোনো আলোচনা হলে সে বলত: আরে তার কথা বাদ দাও, সে তো কোনো চিন্তারই বিষয় নয়। কারণ, সে নির্বংশ। তার মৃত্যু হয়ে গেলে তার নাম উচ্চারণ করারও কেউ থাকবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সূরা কাউসার অবতীর্ণ হয়।  (ইবনে কাসীর, মাযহারী)।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘কাউসার’ সেই অজস্র কল্যাণ যা আল্লাহ তায়ালা রাসূল (সা.)-কে দান করেছেন। কাউসার জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম। সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে যে, ‘এটা একটি নহর যা বেহেশতে নবী (সা.)-কে দান করা হবে।’

আরবি ও বাংলা অর্থসহ সূরা আল কাউসার-

 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

 

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ

ইন্না আ’ত্বোয়াইনা-কাল কাওছার।

অর্থ- নিশ্চয় আমি তোমাকে আল-কাউসার দান করেছি।

 

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

ফাছোয়াল্লি লিরব্বিকা ওয়ানহার।

অর্থ-অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত পড় এবং নহর কর।

 

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ 

ইন্নাশা-নিয়াকা হুওয়াল্ আবতার।

অর্থ-নিশ্চয় তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই হল নির্বংশ।

          মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের পবিত্র কোরআন বুঝে বুঝে পড়ার এবং সঠিক আমল করার তাফিক দান করুক। আল্লাহুম্মা আমিন।

 

দুরুদে আকবর এর ২য় খন্ড

  দুরুদে আকবর এর ২য় খন্ড