সুরা আর-রহমানের ফযিলত
হযরত আলী (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক জিনিসের একটি সৌন্দর্য রয়েছে। আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সূরা,আর-রাহমান।(বাইহাকী- শুআবুল ঈমান)
সমগ্র কোরআনের মধ্যে এ সূরাটি অদ্বিতীয়।এর রচনা শৈলী ও বাক্য বিন্যাস
প্রণালী এত প্রাণস্পর্শী যে , আরবীয় কবিগণ সূরাটির ছন্দ মাধুর্য , ভাষার
দ্যোতনা , ভাব ও বক্তব্যের ব্যঞ্জনায় অভিভূত হয়ে এর ভূয়সী প্রশংসা করতেন
।
এ সূরা নিয়মিত পাঠ করলে পাঠকারীর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। তাঁর জন্য দোযখের দরজা সমূহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে যাবে।
কবিগণের কোরাস ছন্দের ন্যায় এ সূরাটিতে "ফাবিআইয়্যি আ - লা - ই
রাব্বিকুমা তুকাযযিবান " বাক্যটি পুনঃ পুনঃ উল্লেখ থাকায় এটি অত্যন্ত
সুন্দর ও শ্রুতিমধুর হয়েছে । এই আয়াতে সুরা রহমানে ৩১ বার মহান আল্লাহ
বলেছেন। এর সুমধুর শব্দ ও অমিয় বাক্যলহরীর আবেগে কাফেররাও হতবাক হয়ে যেত !
একটি অজানা তথ্য জেনে নিন সূরা আর- রাহমান সম্পর্কে।
এ সূরা নিয়মিত পাঠ করলে কিয়ামতের দিন পাঠকের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে এবং দুনিয়াতে তাঁর রুজি বৃদ্ধি পাবে।
একাধারে ৪০ দিন পর্যন্ত সূর্যোদয়ের সময় এ সূরা পাঠকালে “ফাবি আইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান” পড়ার সময় আঙ্গুল দিয়ে সূর্যের দিকে ইশারা করলে মানুষ সহ য কোন প্রাণী পাঠকের অনুগত হবে।
সমগ্র সূরায় এ বাক্য একত্রিশ বার ব্যবহৃত হয়েছে । প্রত্যেক বার বাক্যটি
নতুন নতুন বিষয়বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এটা অলংকার শাস্ত্রের
পরিপন্থী নয়। আল্লামা সুয়ূতী এ ধরনের পুনরুল্লেখের নাম রেখেছেন।
হাদীস শরিফে নবী করীম ( সঃ ) এরশাদ করেন , প্রত্যেক জিনিসেরই একটা নিজস্ব
সৌন্দর্য আছে । সূরা আর-রহমান কোরআন শরীফের সৌন্দর্য । ফযীলতের দিক দিয়ে
এটি অর্ধেক কোরআনের সমান ।
কোনাে কোনাে বুযর্গ এ সূরাটিকে কোরআনের বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন ।
নবী করীম ( সাঃ ) এরশাদ করেন , যারা শুধু আল্লাহকে খুশী করার জন্য এ সূরাটি
প্রত্যহ আছরের নামায বাদ পাঠ করবে , তাদের চেহারা নূরানী হবে , স্ত্রী
পুত্র তার তাবেদার হবে , তার রিজিক বৃদ্ধি পাবে এবং সে ব্যক্তি বেহেশতের
হকদার হয়ে যাবে।
এক বর্ণনায় আছে ( ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত ওসমান গনী জুন্নরাইন ( রাঃ ) এ সূরাটি পাঠ করে বেহেশতবাসীকে মােহিত করবেন। )
সূরা আররহমানের বেশির ভাগ বিষয়বস্তু মহান আল্লাহ তাআলার ইহলৌকিক ও
পারলৌকিক অনুগ্রহসমূহের বর্ণনা সম্পর্কিত । তাই যখন কোন আল্লাহর বিশেষ
অবদান উল্লেখ করা হয়েছে তখনই মানুষকে সতর্ক ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারে উৎসাহিত
করার জন্যে "ফাবি আইয়ি আলা ইরাব্বিকুমা তুকায্যিবান" বাক্যটি বার বার
উল্লেখ করা হয়েছে ।
এটা বিশুদ্ধভাষী আরবদের গদ্য ও পদ্য রচনায় বহুল ব্যবহৃত এবং প্রশংসিত।
শুধু আরবী ভাষাই নয় , ফারসী , উর্দু , বাংলা প্রভৃতি ভাষায়ও
সর্বজনস্বীকৃত কবিদের কাব্যে এর উদাহরণ পাওয়া যায়।
তবে এসব উদাহরণ উদ্ধৃত করার স্থান এটা নয় । তারপরেও জানার জন্য বলা।
তাফসীরে রূহুল মা'আনীতে এস্থলে কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে ।
সূরা আররাহমান মক্কায় না মদীনায় অবতীর্ণ , এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে ।
কুরতুবী কতিপয় হাদীসের ভিত্তিতে মক্কায় অবতীর্ণ হওয়াকে অগ্রাধিকার
দিয়েছেন ।
তিরমিযীতে হযরত জাবের ( রাঃ ) বর্ণনা করেন , রাসূলুৱাহ ( সাঃ ) কয়েকজন
লােকের সামনে সমগ্র সূরা আররাহমান তেলাওয়াত করেন । তারা শুনে নিশ্চুপ
থাকলে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন,
আমি ‘ লাইলাতুল জ্বিনে ’ জ্বিন — রজনীতে – জ্বিনদের সামনে এ সূরা তেলাওয়াত
করেছিলাম । প্রভাবান্বিত হওয়ার দিক দিয়ে তারা তােমাদের চেয়ে উত্তম ছিল ।
কারণ , আমি যখনই "ফাবি আইয়ি আলা ইরাব্বিকুমা তুকায্যিবান" আয়াতটি
তেলাওয়াত করতাম , তখনই তারা সমস্বরে বলে উঠত :
ربّنَا لا نكْذِبُ بِشى من نعمَتك فَلك الحمد,
অর্থ, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা আপনার কোনো অবদানই অস্বীকার করবনা। আপনার জন্যই সমস্ত প্রশাংসা।
এ হাদীস থেকে জানা যায় , সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ । কেননা , জ্বিন - রজনীর
ঘটনা মক্কায় সংঘটিত হয়েছিল। এ রজনীতে রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) জ্বিনদের কাছে
ইসলাম প্রচার করেছিলেন এবং তাদেরকে ইসলামী শিক্ষা দান করেছিলেন।
No comments:
Post a Comment