আযানের দোয়া, এর গুরুত্ব ও ফযিলত
আজান হলো নামাজের জন্য মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান। আজান শুনার মাধ্যমেই মানুষ নামাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। আজানের কারণেই কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের ঘাড় সবার চেয়ে লম্বা হবে।
মুয়াজ্জিনের আজান শুনার পর তার উত্তর দেয়ার পাশাপাশি দরূদ ও দোয়া করায় রয়েছে অনেক ফজিলত। হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজানের উত্তর দেয়ার পর দরূদ পাঠ এবং দোয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন।
দোয়া হলো ইবাদত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি আল্লাহ ব্যতীত এমন কারো ইবাদত
করো না, যে তোমার ভালো-মন্দ কিছুই করতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৬)
মানুষের
প্রয়োজন পূরণে আল্লাহ তাআলার সমীপে দোয়া করতে হবে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে
তাঁর কাছে চাওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি
তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)
আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করার কিছু সময় ও স্থান রয়েছে। যে সময় ও স্থানে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সব চাওয়া পাওয়া কবুল করেন।
আজান
ও ইক্বামতের মাঝে দোয়া, আজান চলাকালীন সময়ে এবং আজানের পর দোয়া করলে
আল্লাহ তাআলা বান্দার সে দোয়া ফিরিয়ে দেন না। এ সময় দোয়া কবুলের বিষয়টি
অনেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু
বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান এবং
ইক্বামতের মাঝের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, মিশকাত)
হজরত
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর
রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজ্জিনের মর্যাদা যে আমাদের
চেয়ে বেশি হয়ে যাবে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেন, ‘তুমিও তাই বল, মুয়াজ্জিন যা বলে। তারপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর
কাছে) চাও, যা চাইবে (তাই) প্রদান করা হবে। (আবু দাউদ, মিশকাত)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে আজানের শব্দগুলো যে বলবে, সে জান্নাতে যাবে। (মুসলিম, আবু দাউদ, মিশকাত)
আযানের দোয়া:
আরবি দোয়া :
« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺪَّﻋْﻮَﺓِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻤَﺔِ، ﺁﺕِ ﻣُﺤَﻤَّﺪﺍً ﺍﻟْﻮَﺳِﻴﻠَﺔَ
ﻭَﺍﻟْﻔَﻀِﻴﻠَﺔَ، ﻭَﺍﺑْﻌَﺜْﻪُ ﻣَﻘَﺎﻣَﺎً ﻣَﺤﻤُﻮﺩﺍً ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻭَﻋَﺪْﺗَﻪُ، [ﺇِﻧَّﻚَ ﻟَﺎ ﺗُﺨْﻠِﻒُ ﺍﻟْﻤِﻴﻌَﺎﺩَ ]».
বাংলা উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রববা হা-দিহিদ্
দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মা। ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমা। আ-তি মুহাম্মাদানিল
ওয়াসীলাতা, ওয়াল ফাযীলাতা ওয়াদ্দারাযাতার রাফিয়া। অবা আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়াত্ত্বা। ওয়ার যুকনা সাফাআতাহু ইয়াওমাল কিয়ামাহ্। ইন্না কালা তুখলিফুল মী‘আদ।
বাংলা অর্থ : “হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং
প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব্ব! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে
ওসীলা তথা জান্নাতের একটি স্তর এবং ফযীলত তথা সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত
মর্যাদা দান করুন। আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংশিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।”[বুখারী ১/২৫২,নং ৬১]
সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য এ সহজ আমলটি যথাযথ আদায় করা জরুরি। সহজ এ
আমলগুলো মাধ্যমে মহান আল্লাহর অন্যান্য ফরজ ইবাদত-বন্দেগির প্রতি মানুষ
আগ্রহী হয়ে পড়বে। গোনাহমুক্ত জীবন লাভে ধন্য হবে মুসলমান।
No comments:
Post a Comment